ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জকিগঞ্জ বাজার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মাহে রামাদ্বান উপলক্ষে জেডএসসি ক্বিরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতা সিজন-৬ শুরু মুফতি আবুল হাসান: ‘আমার কোনো পাতিনেতা থাকবে না’ জকিগঞ্জে বিআরটিসি বাস ইস্যু: কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জকিগঞ্জের তরুণ-তরুণীদের পদায়ন সিলেট ০৫ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট জেলার (সিনিয়র সহ-মুখপাত্র) প্রতিহিংসা পরিহার করে নির্বাচনকে উৎসব মুখর করার আহবান – ছাত্রদলের সদস্য সচিবের শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার জকিগঞ্জে আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার: পরিচয় মিলেছে সুনামগঞ্জের লন্ডনপ্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি জকিগঞ্জের কৃতী সন্তান এ.জি.এম প্রিন্স সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজসহ দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে উজ্জ্বল সাফল্য!

গোপালগঞ্জে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা, বেড়েছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি শহরের অলিগলিতে কুকুরের ত্রাস; আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে!

  • জনতা টিভি
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার অলিগলি এখন বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার—সর্বদাই কুকুরের দলবদ্ধ বিচরণে শহরবাসীর মনে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় জলাতঙ্কসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি পথচারী ও শিশুদের ওপর হামলার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।বাড়ছে কুকুরের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কিত জনজীবনপৌর এলাকার নবীনবাগ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর, বড়বাজার, পোস্ট অফিস মোড়, মিয়াপাড়াসহ প্রায় সব মহল্লাতেই ৫ থেকে ১০টির বেশি কুকুরের দল একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে রাতে বাড়ি ফেরা, ভোরে নামাজ আদায় কিংবা সকালে হাঁটতে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি কুকুরের তাড়া খেয়ে ভয়ে স্ট্রোক করে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা নিতে প্রতিদিন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করছেন মানুষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে টিকা নিচ্ছেন। গত ১০ মাসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, জলাতঙ্কের ঝুঁকি বর্তমানে কতটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা ও বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচির ব্যর্থতাস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় পৌরসভা বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। কিন্তু ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ বা নির্বীজন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং কুকুরের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পৌরসভা পুরোপুরি ব্যর্থ।”কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণবেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পৌরবাসী কুকুর নিয়ন্ত্রণ, বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জলাতঙ্কের টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জকিগঞ্জ বাজার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

গোপালগঞ্জে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা, বেড়েছে জলাতঙ্কের ঝুঁকি শহরের অলিগলিতে কুকুরের ত্রাস; আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে!

আপডেট সময় : ১১:০২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিনিধি:গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার অলিগলি এখন বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে। দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার—সর্বদাই কুকুরের দলবদ্ধ বিচরণে শহরবাসীর মনে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় জলাতঙ্কসহ অন্যান্য রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি পথচারী ও শিশুদের ওপর হামলার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।বাড়ছে কুকুরের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কিত জনজীবনপৌর এলাকার নবীনবাগ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর, বড়বাজার, পোস্ট অফিস মোড়, মিয়াপাড়াসহ প্রায় সব মহল্লাতেই ৫ থেকে ১০টির বেশি কুকুরের দল একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে রাতে বাড়ি ফেরা, ভোরে নামাজ আদায় কিংবা সকালে হাঁটতে বের হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।সম্প্রতি কুকুরের তাড়া খেয়ে ভয়ে স্ট্রোক করে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা এই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধক টিকা নিতে প্রতিদিন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করছেন মানুষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে টিকা নিচ্ছেন। গত ১০ মাসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, জলাতঙ্কের ঝুঁকি বর্তমানে কতটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা ও বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচির ব্যর্থতাস্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় পৌরসভা বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। কিন্তু ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে কুকুর নিধনে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ বা নির্বীজন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং কুকুরের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাফেরা করতে হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে পৌরসভা পুরোপুরি ব্যর্থ।”কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণবেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ এবং জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি কমাতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। পৌরবাসী কুকুর নিয়ন্ত্রণ, বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের সঠিক বাস্তবায়ন এবং জলাতঙ্কের টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।