ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনসিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক আফজাল, সদস্য সচিব কিবরিয়া, যুগ্ম সদস্য সচিব লুবনা দেশের বাজারে নির্ধারণ করা হলো ভোজ্যতেলের দাম মধ্যরাত বা সকালের মধ্যে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেন খালেদা জিয়া রাস্তায় ফেলে যাওয়া নবজাতককে সারা রাত পাহারা দিল একদল কুকুর জকিগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিদায় সংবর্ধনা জকিগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনের রিজাল্ট শিট। বিরশ্রী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন আব্দুল জলিল আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশ অঞ্চলে ভূমিকম্পের অন্যতম উৎস হলো- ডাউকি ফল্ট, যেটি শেরপুর থেকে শুরু জাফলং হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে বিস্তৃত। জকিগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে ‘নারিকেল গাছ’ মার্কায় তরুণ ব্যবসায়ী কে আই বুলবুলের প্রচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য জকিগঞ্জ (সিলেট): জুলাইয়ের শহীদ শনাক্তে বিদেশি ফরেনসিক টিম; কাজ শুরু ৭ ডিসেম্বর: উপদেষ্টা আসিফ

১ আগস্ট জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জীবনের একটি সাহসী অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

  • জনতা টিভি
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

ইমরান আহমদ: ১ আগস্ট ২০২৪, এই দিনটি আমার জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং একটি চেতনার প্রতীক। সেদিন এইচএসসি পরীক্ষা চলছিল। আমি ছিলাম একজন পরীক্ষার্থী। কিন্তু প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখা নয়,সেদিন আমার সামনে ছিল আরও বড় একটি পরীক্ষা,নৈতিকতার পরীক্ষা।দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছিল। হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছিল। ফেসবুক-টুইটার ভরে উঠছিল নিপীড়নের ভয়ংকর চিত্রে। কারও চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে, কেউ পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছে, কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সারা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার, গুম, এমনকি হত্যার মতো ভয়ংকর দমন-পীড়ন চলছিল তখন।সেই পরিস্থিতিতে আমি কিভাবে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ আর পরীক্ষার চিন্তা করি? আমার সহপাঠীরা যখন রাজপথে মার খাচ্ছে, কেউ কারাগারে, কেউ হাসপাতালে,তখন আমি চুপচাপ পরীক্ষার হলে বসে থাকব? আমার বিবেক আমাকে বারবার না করে দিচ্ছিল।তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই,এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেব না। আমি জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের সহপাঠীদের সাথে মেসেঞ্জারে আলোচনা করি এবং সবাই মিলে একটি বিবৃতি তৈরি করি। এরপর ১ আগস্ট, আমি নিজেই সেই বিবৃতিটি পোস্ট করি “Student of Zakigonj Govt. College, Sylhet” ফেসবুক গ্রুপে। আমি তখন গ্রুপটির অ্যাডমিন ছিলাম। চাইলে নাম গোপন রেখে পোস্ট দিতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি,নিজের নাম প্রকাশ করেই প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরি।ঘোষণায় আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই,যতদিন দেশের গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও দমন-পীড়নের অবসান না হবে, ততদিন আমরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেব না। এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে শত শত শিক্ষার্থীর মাঝে। অনেকে সমর্থন জানায়, পাশে দাঁড়ায়। আবার হুমকিও আসে। “ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে”, “এইসব করে কী হবে”,এই কথাগুলো বারবার শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি জানতাম,আমি যা করেছি, তা ভুল নয়। আমি কেবল নিজের জন্য নয়, পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।আজ এক বছর পর, পেছন ফিরে তাকালে গর্ব হয়। হয়তো সেই সিদ্ধান্তের জন্য কিছু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু এর বিনিময়ে আমি শিখেছি, কিভাবে একজন ছাত্র শুধুমাত্র পরীক্ষার্থী না হয়ে একজন সচেতন নাগরিক হতে পারে। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।১ আগস্ট আমার জীবনে একটি সাহসী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, বরং আমার বিবেকের জাগরণের দিন।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এনসিপি সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক আফজাল, সদস্য সচিব কিবরিয়া, যুগ্ম সদস্য সচিব লুবনা

১ আগস্ট জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জীবনের একটি সাহসী অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

আপডেট সময় : ০৪:১৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

ইমরান আহমদ: ১ আগস্ট ২০২৪, এই দিনটি আমার জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং একটি চেতনার প্রতীক। সেদিন এইচএসসি পরীক্ষা চলছিল। আমি ছিলাম একজন পরীক্ষার্থী। কিন্তু প্রশ্নপত্রের উত্তর লেখা নয়,সেদিন আমার সামনে ছিল আরও বড় একটি পরীক্ষা,নৈতিকতার পরীক্ষা।দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলছিল। হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমেছিল। ফেসবুক-টুইটার ভরে উঠছিল নিপীড়নের ভয়ংকর চিত্রে। কারও চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে, কেউ পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছে, কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সারা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার, গুম, এমনকি হত্যার মতো ভয়ংকর দমন-পীড়ন চলছিল তখন।সেই পরিস্থিতিতে আমি কিভাবে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ আর পরীক্ষার চিন্তা করি? আমার সহপাঠীরা যখন রাজপথে মার খাচ্ছে, কেউ কারাগারে, কেউ হাসপাতালে,তখন আমি চুপচাপ পরীক্ষার হলে বসে থাকব? আমার বিবেক আমাকে বারবার না করে দিচ্ছিল।তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই,এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেব না। আমি জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের সহপাঠীদের সাথে মেসেঞ্জারে আলোচনা করি এবং সবাই মিলে একটি বিবৃতি তৈরি করি। এরপর ১ আগস্ট, আমি নিজেই সেই বিবৃতিটি পোস্ট করি “Student of Zakigonj Govt. College, Sylhet” ফেসবুক গ্রুপে। আমি তখন গ্রুপটির অ্যাডমিন ছিলাম। চাইলে নাম গোপন রেখে পোস্ট দিতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি,নিজের নাম প্রকাশ করেই প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরি।ঘোষণায় আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই,যতদিন দেশের গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও দমন-পীড়নের অবসান না হবে, ততদিন আমরা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেব না। এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে শত শত শিক্ষার্থীর মাঝে। অনেকে সমর্থন জানায়, পাশে দাঁড়ায়। আবার হুমকিও আসে। “ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে”, “এইসব করে কী হবে”,এই কথাগুলো বারবার শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি জানতাম,আমি যা করেছি, তা ভুল নয়। আমি কেবল নিজের জন্য নয়, পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।আজ এক বছর পর, পেছন ফিরে তাকালে গর্ব হয়। হয়তো সেই সিদ্ধান্তের জন্য কিছু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু এর বিনিময়ে আমি শিখেছি, কিভাবে একজন ছাত্র শুধুমাত্র পরীক্ষার্থী না হয়ে একজন সচেতন নাগরিক হতে পারে। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।১ আগস্ট আমার জীবনে একটি সাহসী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, বরং আমার বিবেকের জাগরণের দিন।