নিজস্ব প্রতিবেদক: জনতা টিভি জকিগঞ্জ, ২১ জুলাই ২০২৫
ঢাকার দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুলের মর্মান্তিক ঘটনার রেশ কাটেনি এখনো। সেই নির্মমতায় স্তব্ধ গোটা দেশ। শত-শত শিক্ষার্থী আগুনে পুড়ছে,,কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী মেডিকেলের বিছানায় কাতরাচ্ছে। সহপাঠীদের কান্না, অভিভাবকদের শোক—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী আজ শোকে স্তব্ধ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অথচ এই সময়ে, শিক্ষা বোর্ডের নির্দয় মনোভাব বিস্মিত করেছে সবাইকে।এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে যখন গোটা জাতি কাতর, তখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পক্ষ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের কোনো ঘোষণা আসেনি। আগামীকাল, ২২ জুলাই নির্ধারিত পরীক্ষাটি যথারীতি নেওয়ার কথা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে অমানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব নীতির পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে।এই প্রেক্ষাপটে জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে—যদি ২২ তারিখের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করা হয়, তাহলে পরীক্ষার শেষে তারা নিজ নিজ কেন্দ্রে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, “এই শোকের দিনে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া মানেই আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে উপেক্ষা করা। আমরা শুধু পরীক্ষা নয়, সহমর্মিতা ও মানবিকতার দাবি করছি।”শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “আজ যদি একজন ছাত্র জীবন হারায়, কাল তার স্থানে আমরাও হতে পারি। এই অবস্থায় রাষ্ট্রের উচিত আমাদের পাশে দাঁড়ানো, চাপ প্রয়োগ না করা। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড তাদের অটল অবস্থানে থেকে আমাদের মনের কষ্টকে তুচ্ছ করছে।”স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ছাত্রদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বোর্ডের উচিত ছিল আগামী পরীক্ষাটি পেছানো।অন্যদিকে জকিগঞ্জের সচেতন নাগরিকরা শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।জকিগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান কর্মসূচি দেশের শিক্ষাখাতে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক জোরালো আবেদন। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষা বোর্ড শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়—সহানুভূতির পাশে দাঁড়ায়, নাকি নির্দয়তা চালিয়ে যায়।












