ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জকিগঞ্জ বাজার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ মাহে রামাদ্বান উপলক্ষে জেডএসসি ক্বিরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতা সিজন-৬ শুরু মুফতি আবুল হাসান: ‘আমার কোনো পাতিনেতা থাকবে না’ জকিগঞ্জে বিআরটিসি বাস ইস্যু: কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে জকিগঞ্জের তরুণ-তরুণীদের পদায়ন সিলেট ০৫ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট জেলার (সিনিয়র সহ-মুখপাত্র) প্রতিহিংসা পরিহার করে নির্বাচনকে উৎসব মুখর করার আহবান – ছাত্রদলের সদস্য সচিবের শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার জকিগঞ্জে আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার: পরিচয় মিলেছে সুনামগঞ্জের লন্ডনপ্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি জকিগঞ্জের কৃতী সন্তান এ.জি.এম প্রিন্স সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজসহ দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে উজ্জ্বল সাফল্য!

বর্ষা আসলেই তলিয়ে যায় সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি জায়গা।

  • জনতা টিভি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
  • ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা—বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত একটি জনপদ। তিন দিক ঘেরা ভারতীয় সীমান্ত আর এক পাশে কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা। এখানেই ভারত থেকে আগত বরাক নদীর মোহনায় জন্ম নিয়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা—দুটি প্রধান নদী। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ২২ কিলোমিটার অংশ সরাসরি সীমান্ত নদী হিসেবে পরিচিত, যা জকিগঞ্জের বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলসীদ থেকে শুরু হয়ে বিরশ্রী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।এই কুশিয়ারা নদী এখন রূপ নিয়েছে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হিসেবে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। আমলসীদ থেকে লক্ষীবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতবাড়ি আর জনপদ একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়, নিঃস্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে দিগ্বিদিক শূন্যতায়।১৯৯১ সালের পর কিছু এলাকায় ভাঙন রোধে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, পুরো সীমান্তজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে আজও বহু জনপদ রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। বিশেষ করে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লালগ্রাম, ফেউয়া, সেনাপতিরচক, রারাই, মুমিনপুর, মানিকপুর, বাখরশাল, ষরিসা, শষ্যকুড়ী ও ছবড়িয়া গ্রামগুলোতে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।২০১৬-১৭ অর্থবছরে রারাই, সেনাপতিরচক ও মানিকপুরে কিছু অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজ হয়েছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে এখনো প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। কুশিয়ারা যেন এক অদৃশ্য শক্তির মতো ধীরে ধীরে গিলে নিচ্ছে মানুষ, মাটি ও মানচিত্র।রারাই গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ বলেন, “একসময় আমাদের গ্রাম অনেক বড় ছিল। নদীর ডাইক ছিল অনেক দূরে। বিশাল মাঠে খেলাধুলা করতাম, সাঁতরে নদী পার হতাম। এখন নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ঘর পর্যন্ত চলে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ও বন্যা রোধে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই নদীর ১০৫ কিলোমিটার ড্রেজিং ও ৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রায় প্রস্তুত এবং শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় নদীর পাড়ে বসতঘর ও পুকুর থাকায় সেগুলোর মাধ্যমে নদীর সঙ্গে মাটির সংযোগ ঘটে, ফলে ভাঙন হয়। অন্যদিকে, ভারতীয় অংশে নদী থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে জনবসতি থাকায় সেখানে চর জেগে উঠছে, ভাঙন হচ্ছে না।”এই অব্যাহত ভাঙন শুধু স্থানীয় জনজীবনের নিরাপত্তা নয়, প্রশ্ন তুলছে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়েও। সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা যদি এভাবে গ্রাস করে জনপদ ও ভূমি, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানচিত্র যে বদলে যাবে, তা অমূলক শঙ্কা নয়।এখনই সময়—দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার। তা না হলে ইতিহাস একদিন সাক্ষ্য দেবে—আমরা চোখের সামনে দেশকে ভাঙতে দেখেও চুপ করে ছিলাম

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জকিগঞ্জ বাজার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

বর্ষা আসলেই তলিয়ে যায় সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি জায়গা।

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা—বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত একটি জনপদ। তিন দিক ঘেরা ভারতীয় সীমান্ত আর এক পাশে কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা। এখানেই ভারত থেকে আগত বরাক নদীর মোহনায় জন্ম নিয়েছে সুরমা ও কুশিয়ারা—দুটি প্রধান নদী। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ২২ কিলোমিটার অংশ সরাসরি সীমান্ত নদী হিসেবে পরিচিত, যা জকিগঞ্জের বারঠাকুরী ইউনিয়নের আমলসীদ থেকে শুরু হয়ে বিরশ্রী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত।এই কুশিয়ারা নদী এখন রূপ নিয়েছে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হিসেবে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। আমলসীদ থেকে লক্ষীবাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতবাড়ি আর জনপদ একে একে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়, নিঃস্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে দিগ্বিদিক শূন্যতায়।১৯৯১ সালের পর কিছু এলাকায় ভাঙন রোধে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, পুরো সীমান্তজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে আজও বহু জনপদ রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। বিশেষ করে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লালগ্রাম, ফেউয়া, সেনাপতিরচক, রারাই, মুমিনপুর, মানিকপুর, বাখরশাল, ষরিসা, শষ্যকুড়ী ও ছবড়িয়া গ্রামগুলোতে কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।২০১৬-১৭ অর্থবছরে রারাই, সেনাপতিরচক ও মানিকপুরে কিছু অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজ হয়েছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে এখনো প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। কুশিয়ারা যেন এক অদৃশ্য শক্তির মতো ধীরে ধীরে গিলে নিচ্ছে মানুষ, মাটি ও মানচিত্র।রারাই গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক জুবায়ের আহমদ বলেন, “একসময় আমাদের গ্রাম অনেক বড় ছিল। নদীর ডাইক ছিল অনেক দূরে। বিশাল মাঠে খেলাধুলা করতাম, সাঁতরে নদী পার হতাম। এখন নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ঘর পর্যন্ত চলে এসেছে।” তিনি আরও বলেন, “অনেকের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তারা এখন অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ও বন্যা রোধে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুই নদীর ১০৫ কিলোমিটার ড্রেজিং ও ৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি প্রায় প্রস্তুত এবং শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকায় নদীর পাড়ে বসতঘর ও পুকুর থাকায় সেগুলোর মাধ্যমে নদীর সঙ্গে মাটির সংযোগ ঘটে, ফলে ভাঙন হয়। অন্যদিকে, ভারতীয় অংশে নদী থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে জনবসতি থাকায় সেখানে চর জেগে উঠছে, ভাঙন হচ্ছে না।”এই অব্যাহত ভাঙন শুধু স্থানীয় জনজীবনের নিরাপত্তা নয়, প্রশ্ন তুলছে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়েও। সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা যদি এভাবে গ্রাস করে জনপদ ও ভূমি, তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানচিত্র যে বদলে যাবে, তা অমূলক শঙ্কা নয়।এখনই সময়—দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার। তা না হলে ইতিহাস একদিন সাক্ষ্য দেবে—আমরা চোখের সামনে দেশকে ভাঙতে দেখেও চুপ করে ছিলাম