সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনায় আল্লামা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীসহ সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্যসহ ২৮৫ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় ২ মে মামলাটি রেকর্ড করা হয় (মামলা নং-০১)। মামলার বাদী হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী উত্তর গ্রামের শেখ আবদুর রহমান জানির ছেলে শেখ শফিউর রহমান কয়েছ (১৮), যিনি বর্তমানে সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকায় বসবাস করছেন।মামলাটি দায়ের করা হয়েছে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩/৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায়। এতে ১৩৫ জনের নামোল্লেখ করে আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।**এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে আছেন:**সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি আল্লামা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, আহমদ আল কবির, সেলিনা মোমেন, হেলেন আহমদ, মো. সেলিম উদ্দিন, জগদীশ চন্দ্র দাশ, আরমান আহমদ শিপলু, আশফাক আহমদ ও মোস্তাকুর রহমান মফুর প্রমুখ।বাদীর অভিযোগ মতে, তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। ২০২সালের ১৭ জুলাই রাতে সিলেট শহরের জিন্দাবাজার এলাকায় একটি গোপন বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দমনের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, ১৮ জুলাই সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বানচাল করতে স্বশস্ত্র হামলা চালানো হবে।পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, বিস্ফোরকসহ অবস্থান নেন। ১৮ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে শহীদ মিনারে যাওয়ার পথে মদিনা মার্কেট এলাকায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।বাদী জানান, তারা হামলার সময় গুলি, হকিস্টিক, চাপাতি, রামদা দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় গুলিতে তিনি নিজেও আহত হন—একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার বাম হাতে এবং অপরটি পেটের পাশে আঘাত হানে। হামলায় অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই মোহাম্মদ খবির উদ্দিন।
তথ্যসূত্র: Shyamal Sylhet













